মেলান্দহে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মারধর ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
জামালপুরের মেলান্দহে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে মোসলেম উদ্দিন (৪৫) নামের এক ব্যক্তিকে মারধর করে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর (বুধবার) দুপুরে মেলান্দহের মাহমুদপুর ইউনিয়নের বানিয়াবাড়ী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহত মুসলিম উদ্দিন গুরুতর আহত হয়ে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছে। সে ওই এলাকার আব্দুস ছালাম এর ছেলে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, মোসলেম উদ্দিনের সাথে একই এলাকার আব্দুর রাজ্জাক মনার ছেলে এমদাদুল হক লেবুদের সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছে। গত কয়েক বছর আগে এমদাদুল হক লেবুর মেয়ের সাথে মোসলেম উদ্দিনের ছেলে বিয়ে হয়। তাদের সংসাওে একটি সন্তান রয়েছে। পারিবারিক নানা জটিলতার কারণে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। তালাকের পর তাদের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তানকে নিয়ে যাওয়ায় দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ আরও তীব্র হয়। গত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দে দুপুর আনুমানিক ১:৩০ ঘটিকায় বানিয়াবাড়ী এলাকার নাতিকে দেখতে চাওয়ায় ও ফেরত চাইলে লেবু ও তার পরিবারের লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে মোসলেম উদ্দিন ও তার স্ত্রীকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও এলোপাথাড়ি মারধর করে। এ সময় মোসলেম উদ্দিনের স্ত্রীর গলা থেকে ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের স্বর্ণের চেইন ও হাতের বালা কৌশলে চুরি করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করা হয়। এছাড়া একই দিনে দুপুর আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকায় মেলান্দহ বাজার থেকে বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে আব্দুল আজিজের নিকট থেকে ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বানিয়াবাড়ী গেন্দা মিয়ার বাড়ির সামনে পৌঁছালে এমদাদুল হক লেবুর লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লোহার রড, লাঠি ও সোঠা নিয়ে মোসলেম উদ্দিনের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মোসলেম উদ্দিনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয় এবং নগদ ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও একই সময় মোসলেম উদ্দিনে নিকট থেকে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেয় হয় বলে অভিযোগ করেন ভোক্তভোগী। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় মোসলেম উদ্দিনকে উদ্ধার করে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এঘটনায় মোসলেম উদ্দিন বাদী হয়ে মেলান্দহ থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার আসামীরা হলেন, আব্দুর রাজ্জাক মনার ছেলে এমদাদুল হক লেবু (৪৫), সোনা মিয়ার ছেলে মোঃ সোহাগ (৩৫), আমিনুল ইসলামের ছেলে মোঃ সেলিম (৪২), মোঃ সেলিমের ছেলে মোঃ সিয়াম, মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে আমিনুর (৫৫), এমদাদুল এক লেবুর স্ত্রী মঞ্জুয়ারা বেগম (৪০), মোঃ সেলিমের স্ত্রী রুনি বেগম (৩৫) ও আব্দুর রাজ্জাক মুনা (৫৫)। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের বাড়ীতে গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায়নি।
মেলান্দহ থানার এসআই জ্যোতির্ময় সরকার মিশু জানান, এঘটনা একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন আছে।