জম্মু-কাশ্মীরকে ভারতের অংশ বলায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তলব পাকিস্তানের

সম্প্রতি জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ’ হিসেবে উল্লেখ করেন ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর। তার এই মন্তব্য ভারতীয় গণমাধ্যমে দ্রুত শিরোনাম হয়। বিশ্লেষকসহ অনেকেই সার্জিও গরের এই মন্তব্যকে বিতর্কিত কাশ্মিরের ওপর নয়াদিল্লির দাবির প্রতি মার্কিন সমর্থনের ইঙ্গিত হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। সার্জিও গরের এই মন্তব্যের পর ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নাটালি বারকে-কে তলব করে পাকিস্তান। বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইসলামাবাদে নিযুক্ত মার্কিন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূতকে তলব করে জম্মু ও কাশ্মীরের মর্যাদা নিয়ে ভারতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূতের করা ‘তথ্যগতভাবে ভুল মন্তব্যের’ প্রতিবাদ জানিয়েছে পাকিস্তান। বিবৃতিতে মন্ত্রণালয় জানায়, মার্কিন কূটনীতিককে একটি ডিমার্শ (সরকারি কূটনৈতিক প্রতিবাদপত্র) দেওয়া হয়েছে। এতে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের একটি অংশ হিসেবে উল্লেখ করা তার বক্তব্যকে ‘তথ্যগতভাবে ভুল’ বলে আখ্যায়িত করা হয়। ১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতার পর থেকেই মুসলিম-অধ্যুষিত কাশ্মীর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত। উভয় দেশই এই অঞ্চলটির ওপর নিজেদের পূর্ণ মালিকানার দাবি করে আসছে। এসব দাবি-দাওয়া ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশ দুটি একাধিক বার যুদ্ধেও জড়িয়েছে। পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছে, জম্মু ও কাশ্মীরকে ‘ভারতের অংশ’ হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়টি পাকিস্তান তীব্র নিন্দার সঙ্গে স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘জম্মু ও কাশ্মীর একটি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিরোধপূর্ণ ভূখণ্ড এবং জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রস্তাব ও কাশ্মীরি জনগণের আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো বাকি রয়েছে।’পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, তারা মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই ‘দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য’ জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের এবং নথিভুক্ত অবস্থানকে ‘অস্বীকার করেছে’ বলে উল্লেখ করেছে। একই সঙ্গে এটি আন্তর্জাতিক আইনের সর্বোচ্চতা এবং জাতিসংঘ সনদের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকারেরও পরিপন্থি বলে দাবি করেছে পাকিস্তান। বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মার্কা-ই-হক-এর পরিপ্রেক্ষিতে জম্মু ও কাশ্মীর বিরোধ সমাধানে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে মধ্যস্থতার জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেও, যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের প্রকাশ্য বক্তব্যগুলো যেন জম্মু ও কাশ্মীরের বিরোধপূর্ণ অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকে তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।’ এখানে ‘মার্কা-ই-হক’ বলতে গত বছর পারমাণবিক অস্ত্রধারী দুই প্রতিবেশী ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত চার দিনের সামরিক সংঘাতকে বোঝানো হয়েছে। ভারত-শাসিত কাশ্মীরে একটি হামলায় ২৬ জন পর্যটক নিহত হওয়ার পর ওই সংঘাত শুরু হয়। নয়াদিল্লি হামলার জন্য পাকিস্তান-সমর্থিত জঙ্গিদের দায়ী করেছিল, তবে ইসলামাবাদ সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ভূমিকার কৃতিত্ব দিলেও ভারত দাবি করে আসছে যে, শত্রুতা বন্ধের বিষয়ে দুই দেশের সামরিক বাহিনী সরাসরি আলোচনা করেই সমঝোতায় পৌঁছেছিল।