শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে বাধা নয়, বিচারের মুখোমুখি হবেন: তথ্য উপদেষ্টা

দেশে উগ্রবাদী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব বিষয়ে কথা বলেন। শেখ হাসিনার সম্ভাব্য দেশে ফেরা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, তিনি দেশে ফিরতে চাইলে সরকার বাধা দেবে না। বরং তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। তিনি বলেন, আমরা যাকে চাই, তিনি যদি নিজেই আসেন, তাহলে তো ভালো। তাকে আর ধরে-বেঁধে আনতে হবে না। তিনি আসলে বিচারের মুখোমুখি হবেন। শেখ হাসিনার ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে চলমান আলোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক তথ্য নেই। ফলে অনুমানের ভিত্তিতে আলোচনা না করাই ভালো। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনা একবার ডিসেম্বরের কথা বলছেন। পরে হয়তো জুনের কথা বলবেন। এভাবে ছয় মাস পরপর একই আলোচনা চলতে পারে। তাই নির্দিষ্ট কোনও ঘোষণা বা বাস্তব অগ্রগতি ছাড়া বিষয়টি নিয়ে কথা বলা অর্থহীন। ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পরের পরিস্থিতির সঙ্গে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহের তুলনা টেনে তিনি বলেন, এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালাননি। তিনি দেশে থেকে বিচার ও কারাবাসের মুখোমুখি হয়েছেন এবং পরবর্তী সময়ে নির্বাচনে অংশও নিয়েছেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী তার বিচার হবে। তার বিরুদ্ধে কোনও বেআইনি আচরণ করা হবে না। তিনি ন্যায়বিচারের মুখোমুখি হবেন। আমরা ন্যায়বিচার দিয়েই তার অন্যায়ের জবাব দিতে চাই, বলেন তথ্য উপদেষ্টা। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন এবং সেখানে তার রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ পাওয়া নিয়ে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চাইলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে সরকারের আগের অবস্থানের কোনও পরিবর্তন হয়নি। জাহেদ উর রহমান বলেন, শেখ হাসিনার বিদেশে অবস্থান করে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার আগেও আপত্তি জানিয়েছে। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি উত্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, সরকার এই অবস্থান থেকে সরে আসেনি, সরে আসবে না। আমরা এটাকে এভাবে বলব না যে বাংলাদেশ বিষয়গুলো মেনে নিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের আলোচনা চলাকালেও বিষয়টি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। শেখ হাসিনাকে ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে উল্লেখ করা নিয়েও নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা জনগণের প্রকৃত ম্যান্ডেট ছাড়া দীর্ঘদিন ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন। তাই রাজনৈতিকভাবে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করতে চান না তিনি। দেশে উগ্রবাদী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্কের মধ্যে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একজন মুক্তিযোদ্ধাকে দাফনে বাধা দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের সংশ্লিষ্টতায় এমন ঘটনা ঘটলে সেটি আরও উদ্বেগজনক হয়ে ওঠে। তিনি বলেন, একজন মানুষ মৃত্যুবরণ করার পর তার প্রতি ন্যূনতম সম্মান দেখানো সমাজের দায়িত্ব। জীবদ্দশায় কারও রাজনৈতিক অবস্থান, কর্মকাণ্ড কিংবা মতাদর্শ নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু মৃত্যুর পর তার মরদেহের প্রতি অসম্মানজনক আচরণ কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। অতীতেও মৃত ব্যক্তির লাশ কিংবা কবরকে কেন্দ্র করে অপমানজনক আচরণের নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, সেসব ঘটনাও সমাজে সমর্থন পায়নি। একজন মানুষ মারা যাওয়ার পর তার শেষকৃত্য বা দাফনের অধিকার রয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, যারা এ ধরনের কাজে জড়িত হন, তারা সমাজে শেষ পর্যন্ত নিন্দিত হবেন। কোনও সভ্য সমাজ এ ধরনের আচরণকে প্রশংসা কিংবা সমর্থন করবে না। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর দেশে উগ্রবাদী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীর তৎপরতা, মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা এবং গাজীপুরের টঙ্গীতে এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশে কিছু উগ্র ডানপন্থি গোষ্ঠীর আস্ফালনের প্রবণতা রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েও এ ধরনের প্রবণতা দেখা গেছে। তবে বর্তমান সরকার এসব ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে এই ধরনের ডানপন্থি কিছু মানুষের আস্ফালনের প্রবণতা আছে। কিন্তু কোথাও বিষয়টি এমন পর্যায়ে যায়নি যে সরকার সেটাকে আমলে নিচ্ছে না। সরকার তার দায়িত্ব পালন করছে। ধারাবাহিকভাবে এই কাজ করতে পারলে এ ধরনের প্রবণতা কমে আসবে। টঙ্গীর ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সেখানে শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাতক্ষীরায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় উসকানি দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এসব ঘটনায় বিভিন্ন মহলের চাপ থাকলেও সরকার আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অবস্থান থেকে পিছিয়ে আসেনি। সরকার যদি ধারাবাহিকভাবে বার্তা দিতে পারে যে রাষ্ট্রের আইন ভঙ্গ করে কেউ পার পাবে না, তাহলে এ ধরনের অপরাধপ্রবণতা কমে আসবে। ভবিষ্যতে উগ্রবাদী তৎপরতা আরও কমবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, আমি আপনাকে নিশ্চিত করতে চাই, এটা খুব বেশি সামনে আর থাকবে না। ময়মনসিংহে পূজার আয়োজনসহ সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের বাড়িতে হামলার অভিযোগ প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপে দেওয়া বক্তব্যে সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘু বিভাজনের বাইরে গিয়ে সবাইকে সমান মর্যাদায় দেখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। রাজধানীতে সিপিবি কার্যালয়ে হামলার অভিযোগ এবং বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার আগেই তা প্রতিরোধে সরকারের গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করছে। তবে সব ঘটনা আগাম ঠেকানো সবসময় সম্ভব হয় না। তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অনেক অপরাধ প্রতিরোধ করা হয়। যেসব ঘটনা ঘটেই না, সেগুলো সাধারণত আলোচনায়ও আসে না। ফলে অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সব কার্যক্রম জনসমক্ষে দৃশ্যমান হয় না। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। সেটি হচ্ছে, সরকার অপরাধ ঘটার আগে ঠেকানোর কাজও করে। গোয়েন্দা সংস্থা আছে। অনেক ঘটনা ঠেকানো হয়, যেগুলো আমরা দেখতেও পাই না। গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং গণমাধ্যমের মালিকানা কাঠামো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, কমিশনের সুপারিশ গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেগুলো হুবহু বাস্তবায়নের বাধ্যবাধকতা সরকারের নেই। তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনে অভিজ্ঞ ও যোগ্য ব্যক্তিরা কাজ করেছেন। তারা বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারিশ দিয়েছেন। সরকার সেগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করবে। তবে বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার ও সরকারের নিজস্ব নীতিগত অবস্থানের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সংবিধান সংস্কার নিয়ে নতুন কমিটির কার্যক্রম জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কাজের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এখানে কোনও দ্বন্দ্ব বা সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তিনি বলেন, জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে বিভিন্ন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। কিছু বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, আবার কিছু বিষয়ে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ রয়েছে। যেসব বিষয়ে বিএনপি আগে থেকেই সংস্কারের অঙ্গীকার করেছে এবং ভিন্নমত নেই, সেগুলো সংসদে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান তিনি। সরকারি দফতর থেকে তথ্য পাওয়া এবং তথ্য গোপনের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে তথ্য অধিকার আইন রয়েছে। সাংবাদিকদের এই আইন আরও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন তথ্য কমিশন কার্যকর না থাকায় অনেক ক্ষেত্রে তথ্যপ্রাপ্তিতে সমস্যা হয়েছে। তবে বর্তমানে তথ্য কমিশন গঠিত হয়েছে এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা সক্রিয়ভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আপনারা তথ্য চাইতে শুরু করুন। কোনও সরকারি অফিস তথ্য না দিলে তথ্য কমিশনে যাবেন। আমি ব্যক্তিগতভাবে চাই, তথ্য কমিশন খুবই সক্রিয় হয়ে উঠুক। নিজের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে চুরিসহ নানা কারণে বিএনপিকে ভোট দিয়ে ভুক্তভোগী হয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার অভিযোগে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভের মুখে একজন নারীকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করা সমর্থনযোগ্য নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ব্যক্তি বিভিন্ন বিষয়ে কঠোর সমালোচনা করছেন। শুধু বক্তব্য দেওয়ার কারণে কারও বিরুদ্ধে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। তবে কোনও ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার পর বিচারিক প্রক্রিয়ায় যে সিদ্ধান্ত হয়, সেটি আদালতের বিষয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আদালত ও সরকারকে এক করে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। কাউকে কারাগারে পাঠানো কিংবা জামিন দেওয়া বিচার বিভাগের সিদ্ধান্ত। তার দায় সরাসরি নির্বাহী বিভাগের ওপর চাপানো ঠিক নয়। সংশ্লিষ্ট ঘটনার পুলিশি তদন্ত নিরপেক্ষ হবে বলে আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, মতপ্রকাশের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে কোনও অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কিনা, সেটি আইন অনুযায়ী নির্ধারিত হতে হবে। ব্রিফিংয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা জানান, দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজ ও আধুনিক করতে সমন্বিত স্বাস্থ্য তথ্যভাণ্ডার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জাতীয় ই-হ্যাকাথনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় সংরক্ষণ, তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত এবং ই-হেলথ কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। এই তথ্যভাণ্ডার কার্যকর হলে নাগরিকদের চিকিৎসাসংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা সহজ হবে বলে আশা করছে সরকার। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকারের নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, নির্ধারিত ১৬ শ্রেণির খাদ্য ব্যবসার জন্য নিবন্ধনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এর আওতায় বড় খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ও রেস্তোরাঁর পাশাপাশি রাস্তার পাশে পিঠা, পুরি, পেঁয়াজুসহ বিভিন্ন খাবারের দোকানও থাকবে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি জানান, গত ২০ অক্টোবর বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যে হাইড্রোকার্বন খাতে সহযোগিতা সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। এর মাধ্যমে আলজেরিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি), তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) এবং অন্যান্য পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য আমদানির সুযোগ তৈরি হবে। তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার এখন অত্যন্ত অস্থিতিশীল। অনেক ক্ষেত্রে অর্থ থাকলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে বিকল্প উৎস খুঁজতে হচ্ছে। তিনি জানান, সরকার একদিকে নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান ও বিদ্যমান উৎস থেকে গ্যাস উত্তোলন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের সুযোগ সম্প্রসারণ করছে। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় সরকার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। বিশ্ববাজারে সাময়িক দরপতন হলেও সামগ্রিক অস্থিরতা বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর দুই দিনব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানান তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী এই আয়োজনের উদ্বোধন করবেন। সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে দেশের জ্বালানিনির্ভরতা কমানো এবং বিদ্যুৎ খাতে দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। পুলিশের মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকিরের ‘ক্রসফায়ার’ সংক্রান্ত বক্তব্য নিয়ে সাংবাদিকদের একাধিক প্রশ্নের জবাবে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বক্তব্যটি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সদর দফতর আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দিয়েছে। তিনি বলেন, আইজিপির মূল বক্তব্য থেকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ইঙ্গিত পাওয়া অসম্ভব নয়। অনেকে সেভাবেই বক্তব্যটির ব্যাখ্যা করেছেন। তবে পরবর্তী ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তিনি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বোঝাতে চাননি।