নিজস্ব সংবাদদাতা
জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলায় জমি-জমার বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ দেশিয় অস্ত্র দিয়ে এলোপাতারি কুপিয়ে এবং রড দিয়ে পিটিয়ে নারী, কিশোরীসহ ৭ জনকে গুরুতর আহত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবিষয়ে মেলান্দহ থানায় ১৭ জনকে আসামী করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। গত সোমবার সকালে মেলান্দহ উপজেলার দুরমুট ইউনিয়নের দিলালেরপাড়া এলাকার তিন রাস্তার মোড়ে এঘটনা ঘটে। গুরুতর আহতরা হলেন, মো. এমদাদুল হক, মো. হারুন, রবিউল ইসলাম, আলাল উদ্দিন, মোছাঃ আছমা বেগম, জান্নাত ও আকলিমা বেগম। আহত সকলকে জামালপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহতরা জানায়, আমাদের কোন দোষ নাই। আমরা জমি-জমা নিয়ে মামলা করেছি। মামলার হাজিরা দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে বাড়ী থেকে বের হয়ে তিনরাস্তার মোড়ে মামলার আসামীরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পথ আগলে দাঁড়ায়। এসময় তাদের হাতে থাকা দা, রড, হকিস্টিক, লাঠি-সোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে এবং রড দিয়ে মারতে থাকে। এসময় আমরা নিজেদের বাঁচাতে কেউ দৌড়ে বাড়ীতে গেলে সেখানে গিয়েও মারতে থাকে এবং ঘরে তালা লাগিয়ে দেয়। আমরা আসামীদের ভয়ে গত ২ বছর যাবৎ বাড়ী-ঘরে থাকতে পারি না। সবসময় মেরে ফেলার হুমকি দেয় এই ভয়ে পালিয়ে থাকি। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আসামীরা দীর্ঘদিন যাবৎ জমি জমা সংক্রান্ত বিষয়াদি নিয়ে শত্রুতা ও মনোমালিন্য করিয়া আসতেছে। এমতাবস্থায় ঘটনার দিন, জামালপুর জজ কোর্টে যাওয়ার পথে আসামীরা বাড়ীর সামনে তিন রাস্তার মোড়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আসামী সবুজের হুকুমে দা, হকিস্টিক, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সস্ত্রে সজ্জিত হইয়া আমাদের উপর অতর্কিত ভাবে আক্রমণ করে। এসময় আসামীরা রবিউল ইসলামকে রড দিয়ে পিটিয়ে মারাত্মক জখম করে এবং মেরে ফেলার উদ্দেশ্যে হকিস্টিক, লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে রক্তাক্ত করে। এসময় রবিউলকে মারতে দেখে এমদাদুল হক, হারুন, আলাল উদ্দিন, মোছা. জান্নাত, আছমা ও আকলিমা বেগম ফেরাতে আসলে তাদেরও রড এবং হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এসময় আসামীরা আকলিমা বেগমের পড়নের কাপড় চোপড় ধরে টানা হেঁচড়া করে বিবস্ত্র ও শ্লীলতাহানি করে। তার গলায় থাকা ৮ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন আসামীরা ছিনাইয়া নেয়। যার আনুমানিক মূল্য এক লক্ষ টাকা। মারামারির সংবাদ পেয়ে মামলার বাদী আছমা বেগম ঘটনাস্থলে পৌছিলে তাকে লোহার রড দিয়ে শরীরে আঘাত করে মারাত্মকভাবে জখম করে। এঘটনার সময় আশপাশের লোকজন ও এলাকাবাসী এগিয়ে আসিলে আসামীরা চলে যাওয়ার সময় আহত সকলকে সুযোগ মত পাইলে খুন করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেয়।

